X
X

Fact Check: ভারতীয় সেনা দ্বারা বাংলাদেশের লালমনিরহাট এয়ারবেস দখল করার দাবি ফেক, ভাইরাল ভিডিওটি ডিপফেক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার্স একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করছে যে ভারতীয় সেনা আন্তর্জাতিক সীমা পার করে বাংলাদেশের ‘লালমার হাট এয়ারবেস’ (লালমনিরহাট এয়ারবেস) দখল করে নিয়েছে। এরসঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সেনাদের গতিবিধি দেখা যাচ্ছে, যেটার অডিওতে দাবি করা হয়েছে যে ভারতীয় সেনার স্পেশ্যাল প্যারা কমান্ডোজরা এই পদক্ষেপটি নিয়েছেন।

  • By: Abhishek Parashar
  • Published: জানু. 10, 2026 at 05:45 অপরাহ্ন
  • Updated: জানু. 10, 2026 at 05:57 অপরাহ্ন

নতুন দিল্লি (বিশ্বাস নিউজ)। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার্স একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করছে যে ভারতীয় সেনা আন্তর্জাতিক সীমা পার করে বাংলাদেশের ‘লালমার হাট এয়ারবেস’ (লালমনিরহাট এয়ারবেস) দখল করে নিয়েছে। এরসঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সেনাদের গতিবিধি দেখা যাচ্ছে, যেটার অডিওতে দাবি করা হয়েছে যে ভারতীয় সেনার স্পেশ্যাল প্যারা কমান্ডোজরা এই পদক্ষেপটি নিয়েছেন। ভিডিওটি দেখে এবং শুনে মনে হচ্ছে এটি কোনো নিউজ বুলেটিনের অংশ।

বিশ্বাস নিউজ নিজেদের তদন্তে এই দাবিটিকে ফেক বলে পেয়েছে। ভারতীয় সেনা দ্বারা বাংলাদেশের সীমায় ঢুকে সেখানকার এয়ারপোর্ট দখল করার দাবি ভুয়ো এবং এই দাবি সহ ভাইরাল হওয়া মাল্টিমিডিয়া ডিপফেক। ভাইরাল ভিডিওটিতে একজন টিভি অ্যাঙ্করের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিল থাকা অডিও ক্লোন ব্যবহার করে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে।

কী ভাইরাল হচ্ছে?

বিশ্বাস নিউজের টিপলাইন নম্বর +91 9599299372 তেও অনেক ইউজার্স এই ভিডিওটি পাঠিয়ে এর সত্যতা বলার জন্য অনুরোধ করেছেন।

তদন্ত

ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে যে, “বন্ধুগণ, কাল মাঝরাতে যা হয়েছে তার কল্পনা ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার বা বেইজিংয়ের কৌশলবিদরা কেউ করেননি। গতকাল রাত প্রায় একটা বেজে পনেরো মিনিটে ভারতীয় সেনার স্পেশ্যাল প্যারা কমান্ডোজরা আন্তর্জাতিক সীমা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের লালমার হাট এয়ারবেসে তিরঙ্গা উড়িয়েছেন। এটি সেই এয়ারবেস, যেটিকে চীনের আরব ডলারের সাহায্যে এইজন্য বানানো হয়েছিল, যাতে যুদ্ধের সময় চিকেন নেক নামের সঙ্কীর্ণ রাস্তা কেটে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে। কিন্তু আজ সেই রাজনৈতিক ঘাঁটি ভারতীয় জওয়ানদের ইস্পাতের মতো বুটের নিচে আছে। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয় না। ভারতীয় সেনা শুধুমাত্র এয়ারবেস পর্যন্ত থামেনি, বরং লালমনির হাটের বেস থেকে বারো কিলোমিটার আরো ভেতরে ঢুকে সাতটি কৌশলগত গ্রামের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেছে।”

ভিডিওটির সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপশন এখানে পড়া যেতে পারে। 

ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা জানার জন্য আমরা এতে ব্যবহার করা অডিওটির তদন্ত করি। ভাইরাল অডিওটি প্রায় 10 মিনিট লম্বা, এই কারণে এর তদন্তের জন্য আমরা এটিকে ছোট-ছোট চারটি ভাগে ভাগ করি এবং তারপর ডিপফেক অডিও ডিটেকশন টুলের সাহায্যে এই সমস্ত অডিও ক্লিপ চেক করি। সুইস ডিপফেক কোম্পানি অরিজিন.এআই এর অ্যানালিসিসে এই সম্পূর্ণ অডিও ট্র্যাক এআই ক্রিপ্টেড বলে বেরিয়ে আসে।

প্রথম ভিডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 3 মিনিট 29 সেকেন্ড

0.00 থেকে 2.50 এবং 2.55-3.30 এর মধ্যে অডিওর এআই ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (98% এবং 99% এর কনফিডেন্স স্কোর সহ) নিশ্চিত হয়।

সেখানেই 2.50-2.55 এর মধ্যে পাঁচ সেকেন্ডের অডিও ট্র্যাকের প্রামাণিক হওয়ার সম্ভাবনার (48% এর কনফিডেন্স স্কোর সহ) ন্যূনতম নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 2 মিনিট 29 সেকেন্ড

0.00-1.15 টাইমফ্রেমের অডিও ট্র্যাকের এআই দিয়ে ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (100 শতাংশ কনফিডেন্স স্কোর সহ) নিশ্চিত হয়। 1.20-2.14 এর মধ্যে অডিও ট্র্যাকের এআই দ্বারা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (99% শতাংশ) নিশ্চিত হয়। 2.20-2.30 এর মধ্যেকার অডিও ফ্রেম এআই ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (100 শতাংশ কনফিডেন্স স্কোর) নিশ্চিত হয়।

সেখানেই 1.15-1.20 এবং 2.14-2.20 এর মধ্যে (মোট 10 সেকেন্ড) এর ভিডিও ট্র্যাকের প্রামাণিক হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়।

তৃতীয় অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 2 মিনিট 33 সেকেন্ড

0.00-1.59 এর অডিও ট্র্যাকের এআই দ্বারা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (99% কনফিডেন্স স্কোর সহ) নিশ্চিত হয়। 2.05-2.235 এর মধ্যেকার অডিও ট্র্যাকের এআই দ্বরা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (100 শতাংশ কনফিডেন্স স্কোর) নিশ্চিত হয়।

সেখানেই 1.59 থেকে 2.05 অর্থাৎ মোট ছয় সেকেন্ডের প্রামাণিক হওয়ার সম্ভাবনা (99 শতাংশ কনফিডেন্স স্কোর) নিশ্চিত হয়।

চতুর্থ অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 1 মিনিট 14 সেকেন্ড

এই সম্পূর্ণ অডিও ট্র্যাক অডিও ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (98% কনফিডেন্স স্কোর) নিশ্চিত হয়। আমাদের তদন্তে এটা স্পষ্ট যে ভাইরাল মাল্টিমিডিয়ার সম্পূর্ণ অডিও ট্র্যাক এআই ক্রিপ্টেড।

এইসব অ্যানালাইসিস আমরা হিয়া টুলের সাহায্যে আবার চেক করি।

প্রথম অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: পর্যন্ত: 3 মিনিট 29 সেকেন্ড

কিছু সেকেন্ডের অডিও ফ্রেম বাদ দিয়ে (হলুদ এবং সবুজ কোডিং গ্রাফ) এই সম্পূর্ণ অডিও ক্লিপের এআই দ্বারা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (95%) নিশ্চিত হয়।

দ্বিতীয় অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 2 মিনিট 29 সেকেন্ড

কিছু সেকেন্ডের অডিও ফ্রেম বাদ দিয়ে (হলুদ এবং সবুজ কোডিং গ্রাফ) এই সম্পূর্ণ অডিও ক্লিপের এআই দ্বারা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (96%) নিশ্চিত হয়।

তৃতীয় অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 2 মিনিট 33 সেকেন্ড

কিছু সেকেন্ডের অডিও ফ্রেম বাদ দিয়ে (হলুদ এবং সবুজ কোডিং গ্রাফ) এই সম্পূর্ণ অডিও ক্লিপের এআই দ্বারা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (96%) নিশ্চিত হয়।

চতুর্থ অডিও ক্লিপ: পর্যন্ত: 1 মিনিট 14 সেকেন্ড

কিছু সেকেন্ডের অডিও ফ্রেম বাদ দিয়ে (হলুদ এবং সবুজ কোডিং গ্রাফ) এই সম্পূর্ণ অডিও ক্লিপের এআই দ্বারা ক্রিপ্টেড হওয়ার সর্বাধিক সম্ভাবনা (95%) নিশ্চিত হয়।

হিয়া টুলের অ্যানালাইসিসে কালার কোডিং-এর মাধ্যমে এআই ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা দেখানো হয়, যেটায় লাল সর্বাধিক সম্ভাবনা এবং সবুজ ন্যূনতম সম্ভাবনা দেখায়।

অর্থাৎ আমাদের তদন্তে এটা স্পষ্ট যে ভাইরাল ভিডিওতে অডিওর মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, এটি এআই ক্রিপ্টেড অর্থাৎ কাল্পনিক এবং বানানো। তার পাশাপাশি এতে ব্যবহার করা ভিডিও আলাদা-আলাদা অসম্পর্কিত ঘটনাসমূহের এবং কিছু ভিজ্যুয়াল এআই ক্রিপ্টেড। ভিডিওর শুরুতে সেনা অভিযানের দাবিতে যে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে, সেটি প্রায় পাঁচ বছর পুরানো একটি সামরিক মহড়ার ভিডিও। অরিজিনাল ভিডিওটি এখানে দেখা যেতে পারে।

আমরা ভারতীয় সেনার গতিবিধির সর্বাধিক সাম্প্রতিক রিপোর্ট 21 ডিসেম্বর 2025 এর পেয়েছি, যেটা হিসাবে, বাংলাদেশে অশান্তির সময় 1971 এর ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধে লড়াই করা সেনা ব্যাটেলিয়নকে ত্রিপুরাতে মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজ রিপোর্টস অনুযায়ী, রংপুর ডিভিশনে অবস্থিত লালমনিরহাট এয়ারবেসটি বাংলাদেশ চীনের সহায়তায় উন্নত করছে, এটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে এবং কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।

ভারতীয় সেনা সংক্রান্ত গতিবিধি নিয়ে দৈনিক জাগরণের অ্যাসোসিয়েট এডিটর সঞ্জয় মিশ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নিশ্চিত করে জানান যে, ভারতীয় সেনার বাংলাদেশের সীমান্তে এই ধরনের গতিবিধির দাবি সম্পূর্ণ ফেক।

উপসংহার: বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং অশান্তির মধ্যে ভারতীয় সেনার বাংলাদেশের সীমায় ঢুকে লালমনিরহাট এয়ারবেস দখল করার দাবি ফেক। এই দাবি সহ ভাইরাল মাল্টিমিডিয়া ফেক, যাতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অডিও ট্র্যাক এআই ক্রিপ্টেড। তারসঙ্গে এই মাল্টিমিডিয়ায় ব্যবহার করা ভিডিও পুরানো এবং অসম্পর্কিত ঘটনার।

  • Claim Review : ভারতীয় সেনার স্পেশ্যাল প্যারা কমান্ডোজরা বাংলাদেশের লালমার হাট এয়ারবেস দখল করে নেয়।
  • Claimed By : Tipline User
  • Fact Check : False

Know the truth! If you have any doubts about any information or a rumor, do let us know!

Knowing the truth is your right. If you feel any information is doubtful and it can impact the society or nation, send it to us by any of the sources mentioned below.

ট্যাগ

Post your suggestion

No more pages to load

সম্পর্কিত আর্টিকেলস

Next pageNext pageNext page

Post saved! You can read it later