Fact Check: পশ্চিমবঙ্গে সাধুদের মারধর করার পুরানো ভিডিও ভুল দাবি সহ ভাইরাল করা হচ্ছে
সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু সাধুকে মারধর করার একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে এটি গাজিয়াবাদের মুরাদনগরের।
- By: Pragya Shukla
- Published: আগস্ট 8, 2025 at 07:59 অপরাহ্ন
নতুন দিল্লি (নতুন দিল্লি)। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু সাধুকে মারধর করার একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে এটি গাজিয়াবাদের মুরাদনগরের। মুরাদনগরের গঙ্গনহরের মন্দিরের বাইরে চেঞ্জিং রুম আছে। চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা লাগানো ছিল এবং তার লাইভ ফিড সাধুর মোবাইলে ছিল। মানুষ এই ঘটনা জানতেই সাধুকে মারধর করেন।
বিশ্বাস নিউজ তাদের তদন্তে পায় যে এই ভাইরাল দাবিটি ভুল। আসলে ভাইরাল ভিডিওটি এক বছর পুরানো এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের। পুলিশের মতে, মকর সংক্রান্তির সময় পুরুলিয়া জেলায় গঙ্গাসাগর মেলায় স্নান করতে আসা সাধুদের স্থানীয় মানুষেরা মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার মিথ্যা অভিযোগে মারধর করেন। অপরদিকে, গাজিয়াবাদের ঘটনাটিও প্রায় এক বছর আগের। ঘটনাটি সামনে আসার পর সিসিটিভি লাগানো সাধু পালিয়ে যায়।
কী ভাইরাল হচ্ছে?
ফেসবুক ইউজার ‘পরভেজ ডেরওয়াল’ 4 আগষ্ট 2025 তারিখে ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “গাজিয়াবাদের মুরাদনগর গঙ্গনহরে মন্দিরের বাইরে চেঞ্জিং রুম আছে। সেখানে CCTV ক্যামেরা লাগানো পাওয়া যায় এবং ক্যামেরার Live ফিড সাধুর মোবাইলে ছিল। সাধুর মোবাইল থেকে পুলিশ মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের বেশ কয়েকটি ক্লিপ পেয়েছে।”
পোস্টটির আর্কাইভ লিঙ্ক এখানে দেখুন।

তদন্ত
ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা জানতে আমরা গুগলে সংশ্লিষ্ট কীওয়ার্ডের সাহায্য নিয়ে সার্চ করি। আমরা রিপাবলিক ভারত -এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভিডিও রিপোর্ট পাই। ভিডিওটি 13 জানুয়ারি 2024 তারিখে শেয়ার করা হয়েছিল। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সাধুদের উলঙ্গ করে মারধরের এই ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ছিল।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গুগলে সংশ্লিষ্ট কীওয়ার্ডের সাহায্যে সার্চ করি। আমরা দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট ইউপি তাক এর ওয়েবসাইটে পাই। রিপোর্টটি 13 জানুয়ারি 2024 এ প্রকাশিত হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, “পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন হচ্ছিল। এই মেলাতেই ইউপি থেকে আসা তিনজন সাধুকে মারধরের মামলা সামনে আসে। স্থানীয় মানুষেরা তিনজন সাধুকে অপহরণকারী ভেবে নেন, তারপর তাদের উপর হামলা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে ভিড় থেকে উদ্ধার করে এবং সবাইকে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় 12 জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
আজতক-এর ওয়েবসাইটে 13 জানুয়ারি 2024 তারিখে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, “এই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে যে মকর সংক্রান্তির সময় স্নানের জন্য ইউপি-এর তিনজন সাধু, এক ব্যক্তি এবং তার দুই ছেলে গঙ্গাসাগরে যাচ্ছিলেন। এই সময় তারা তারা পথ হারিয়ে ফেলেন, তাই তারা তিনজন মেয়েকে রাস্তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। মেয়েরা সাধুদের দেখে চিৎকার করে পালিয়ে যায়। তারপর স্থানীয় মানুষজন সাধুদের ধরে ফেলেন এবং মারধর শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজন সাধুকে কাশীপুর থানায় নিয়ে যায়।”
গাজিয়াবাদের ঘটনার বিষয়ে সার্চ করে আমরা এবিপি নিউজ -এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে 25 মে 2024 তারিখে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট পাই। রিপোর্ট অনুযায়ী, “উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ছোটো হরিদ্বার নামে পরিচিত গঙ্গনহর ঘাটে মহিলাদের চেঞ্জিং রুমে সিসিটিভি পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনায় ঘাটে অবস্থিত প্রাচীন শনি মন্দিরের সাধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।”
ইটিভি-র ওয়েবসাইটে 8 সেপ্টেম্বর 2025-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, “পুলিশ তদন্তে সামনে আসে যে সাধু গঙ্গনহরের পাশে চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা লাগিয়ে মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের সময় ভিডিও রেকর্ড করতেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ এফআইআর দায়ের করে, তবে অভিযুক্ত সাধু পালিয়ে যায়। চার মাস পার হয়ে গেলেও সাধুকে ধরা যায় না। মুরাদনগর পুলিশ সাধুর খোঁজ দিলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেয়।”
আরও তথ্যের জন্য আমরা এই ঘটনা কভার করা দৈনিক জাগরণ -এর গাজিয়াবাদ প্রতিনিধি বিজয় ত্যাগীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান যে এই ভিডিওটি ওই ঘটনার নয়। গঙ্গনহর ঘাটের মহিলাদের চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা লাগানো নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সেখানকার সাধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তারপর সে পালিয়ে যায়। কয়েক মাস পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে জামিনে আছে।
সবশেষে আমরা ভাইরাল ভিডিওটি ভুল দাবির সঙ্গে শেয়ার করা যে ইউজারের অ্যাকাউনড় স্ক্যান করি। আমরা পাই যে ইউজারকে প্রায় 2.5 হাজার মানুষ ফলো করেন। ইউজার প্রোফাইলে নিজেকে দিল্লির বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উপসংহারঃ বিশ্বাস নিউজ তাদের তদন্তে পেয়েছে যে সাধুদের মারধরের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে করা দাবি ভুয়ো। আসলে ভাইরাল ভিডিওটি এক বছর পুরানো এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের। পুলিশের মতে, মকর সংক্রান্তির সময় গঙ্গাসাগর মেলায় স্নান করতে আসা সাধুদের উপর স্থানীয় মানুষেরা মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার মিথ্যা অভিযোগে মারধর করেন। অপরদিকে, গাজিয়াবাদের ঘটনাও প্রায় এক বছর পুরানো।
- Claim Review : মহিলাদের চেঞ্জিং রুমে ক্যামেরা লাগানোর কারণে সাধুদের মারধর।
- Claimed By : FB User Parvez Derwal
- Fact Check : False
Know the truth! If you have any doubts about any information or a rumor, do let us know!
Knowing the truth is your right. If you feel any information is doubtful and it can impact the society or nation, send it to us by any of the sources mentioned below.











