Fact Check : পাঞ্জাবের বন্যা দুর্গতদের জন্য পাঠানো রেশন বলে মরাঠা আন্দোলনের ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে
বিশ্বাস নিউজ ভিডিওটি যাচাই করার পর জানা যায় যে এই ভিডিওটি পাঞ্জাবের না। আসলে এই ভিডিওটি মুম্বাইতে হওয়া মরাঠা আন্দোলনের পরের দৃশ্য। আন্দোলন শেষ হওয়ার পরে সবাই সবকিছু এভাবেই ফেলে চলে গিয়েছিলেন। সেই ভিডিওটিকেই এখন কিছু মানুষ পাঞ্জাবের বর্তমান স্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে শেয়ার করছেন।
- By: Jyoti Kumari
- Published: সেপ্টে. 12, 2025 at 05:54 অপরাহ্ন
নতুন দিল্লি (বিশ্বাস নিউজ)। পাঞ্জাবের বহু জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে মানুষের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পাঞ্জাবে ত্রাণ পাঠানো এবং উদ্ধারকাজ চলছে। অনেক রাজ্য থেকে মানুষ রেশন এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছেন। এরমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, যেখানে মাটিতে অনেক রুটি এবং অন্যান্য জিনিস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে এই ভিডিওটি পাঞ্জাবের। যেখানে রেশন এখন এভাবে পড়ে আছে।
বিশ্বাস নিউজ ভিডিওটি যাচাই করার পর জানা যায় যে এই ভিডিওটি পাঞ্জাবের না। আসলে এই ভিডিওটি মুম্বাইতে হওয়া মরাঠা আন্দোলনের পরের দৃশ্য। আন্দোলন শেষ হওয়ার পরে সবাই সবকিছু এভাবেই ফেলে চলে গিয়েছিলেন। সেই ভিডিওটিকেই এখন কিছু মানুষ পাঞ্জাবের বর্তমান স্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে শেয়ার করছেন।
ভাইরাল পোস্ট
ফেসবুক ইউজার linesatyam 9 সেপ্টেম্বর 2025 তারিখে ভিডিওটি পোস্ট (আর্কাইভ লিঙ্ক) করেন। এতে লেখা আছে, “পাঞ্জাবে এখন রেশনের কোনো প্রয়োজন নেই।”
ভিডিওতে লেখা আছে: পাঞ্জাবে পাঠানো রেশনের অবস্থা।

ইন্সটাগ্রাম ইউজার rohtak__te এই ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেছেন যে এই ভিডিওটি হরিয়ানার পক্ষ থেকে পাঞ্জাবে পাঠানো রেশনের।
তদন্ত
ভাইরাল ভিডিওটির তদন্তের জন্য আমরা এটির কীফ্রেম বের করে সেটিকে গুগল লেন্সে সার্চ করেছি। mumbaiculture.in নামের ইন্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি আপলোড করা পাই। 4 সেপ্টেম্বর 2025 তারিখে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশন অনুযায়ী, “বিএমসী 29 আগষ্ট থেকে 2 সেপ্টেম্বরের মধ্যে মরাঠা আন্দোলন চলাকালীন সিএসএমটি, আজাদ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকা থেকে 125 মেট্রিক টনের বেশি বর্জ্য পরিষ্কার করে।”
আমরা MUMB.AI নামক এক্স হ্যান্ডেলে এই ভিডিওর অনুরূপ ভিডিও পাই। 5 সেপ্টেম্বর 2025 তারিখে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়েছিল,”ভিডিওটি মুম্বাইতে হওয়া মরাঠা আন্দোলনের। আন্দোলনের পরে 125 টনের বেশি বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়েছিল।”
ভাইরাল ভিডিওর অনুরূপ ছবি loksatta live এর ভেরিফাইড ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট -এ পাওয়া যায়। 2 সেপ্টেম্বর 2025 তারিখে করা পোস্টে বলা হয়েছে, ”মনোজ জারাঙ্গে পাটিল 29 আগষ্ট থেকে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে মরাঠা সংরক্ষণের জন্য আন্দোলন করছিলেন। তার সঙ্গে মুম্বাই থেকে হাজার হাজার আন্দোলনকারীও যোগদান করেছিলেন। এই আন্দোলনকারীদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাহায্য চলে এসেছিল। নবি মুম্বাই সিডকো বিল্ডিং-এর বাইরে রুটি এবং অন্যান্য জিনিসের ছবি দেখা যেতে পারে।”
ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পোস্ট এখানে দেখুন।
তদন্তে এগিয়ে আমরা ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে সার্চ করি। জানা যায় যে এই ভিডিওটি সিঙ্গার এবং সোশ্যাল ওয়ার্কার হরপ্রীত মান -এর। হরপ্রীত মান @khalsa_help_foundation এর ফাউন্ডার। হরপ্রীতের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি 7 সেপ্টেম্বর 2025 এ আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় যে,”এখানে রেশনের প্রয়োজন নেই। এখানে অনেক রেশন এসে গেছে। যে যা কালেকশন করছেন তা বন্ধ করুন। দশ থেকে পনেরো দিনের মধ্যে বলা হবে যে কোন জিনিসের প্রয়োজন আছে। অনেক রেশনের ট্রলি আসছে। আপনাদের কাছে রিকুয়েস্ট করছি এখন রেশন পাঠাবেন না। যদি কেউ সাহায্য করতে চান, তাহলে ওষুধের সেবা পাঠান। ভিডিওটি প্রচুর শেয়ার করুন।”
ভাইরাল ভিডিওটি যাচাই করতে আমরা মারাঠি জাগরণের ডেপুটি এডিটর বিনোদ রাঠৌরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাদের বলেন,”এই ভিডিওটি মুম্বাইয়ের, যখন মরাঠা সংরক্ষণের উপর আন্দোলন শেষ হওয়ার পরে সবাই খাওয়ার-দাওয়ার সেখানেই ফেলে চলে গিয়েছিলেন। তারপরে বিএমসি ওয়ার্কার্সরা ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র জমা করেন।”
শেষে আমরা ভিডিওটি শেয়ার করা ইউজারকে স্ক্যান করি। জানা যায় যে ইউজারকে 4,247 জন ফলো করেন।
উপসংহার: বিশ্বাস নিউজ নিজের তদন্তে পেয়েছে যে ভাইরাল ভিডিওটি পাঞ্জাবে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য পাঠানো রেশনের না। আসলে ভিডিওটি মুম্বাইয়ে হওয়া মরাঠা আন্দোলনের,যখন আন্দোলন শেষ হওয়ার পরে মানুষ রুটি এবং সব জিনিস ছেড়ে চলে যান। সেই ভিডিওটিকে এখন পাঞ্জাবের বলে ভুল দাবি সহ শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটির পাঞ্জাবের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
- Claim Review : পাঞ্জাবে পাঠানো রেশনের ভিডিও।
- Claimed By : ফেসবুক ইউজার -linesatyam
- Fact Check : False
Know the truth! If you have any doubts about any information or a rumor, do let us know!
Knowing the truth is your right. If you feel any information is doubtful and it can impact the society or nation, send it to us by any of the sources mentioned below.











