X

Fact Check: ইসকনের মায়াপুরের ছবি একটি বিভ্রান্তিকর দাবি নিয়ে ভাইরাল হয়েছে, ছবিতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশে হামলার কোনো সম্পর্ক নেই

ভাইরাল ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুর ইসকন মন্দিরের 22 জুন, 2016 তারিখের। সেখানে মুসলমানদের জন্য ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। এই ছবিতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে বাংলাদেশে হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। বিভ্রান্তিকর দাবি নিয়ে ভাইরাল হচ্ছে ছবিটি।

  • By Vishvas News
  • Updated: April 5, 2022

নিউ দিল্লী (বিশ্বাস নিউজ)। স্যোশাল মিডিয়াতে একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হচ্ছে। এখানে একটি ব্যক্তিকে লোকেদের খাবার দিতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ভাইরাল করে ইউজার দাবী করছেন যে উনি বাংলাদেশের ইসকন মন্দিরের স্বামী নিতাই দাস। ৩০ দিন ধরে রোজার সময় তিনি মুসলমানদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছিলেন। মুসলমানরা মন্দিরে ঢুকে নিতাই দাসকে হত্যা করে।

বিশ্ব নিউজ তার তদন্তে দেখেছে যে ভাইরাল ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরের ইসকন মন্দিরের, যা জুলাই 2016 এ প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশের ইসকন মন্দিরে হামলার সঙ্গে এই ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

কি আছে এই ভাইরাল পোস্টটিতে

ফেসবুক ইউজার Virendra Vicky Banna (আর্কাইভ)25 শে মার্চ এই স্ক্রীনশটটি শেয়ার করেছিলেন। স্ক্রীনশটে ফোটোর সাথে লিখেছিলেন,

নির্মম হত্যা

ইনি হলেন বাংলাদেশের ইসকন মন্দিরের স্বামী নিতাই দাসজী। তিনি টানা 30 দিন রোজার সময় মুসলমানদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছিলেন এবং ওই মুসলমানরা ইসকন মন্দিরে প্রবেশ করে স্বামীজিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
আরো সাপকে দুধ খাওও!!!

ফেসবুকের আরও কয়েকজন ইউজার এই স্ক্রিনশটটি শেয়ার করেছেন।

চেক করার জন্য আমাদের ‘বিশ্বাস নিউজ’ এর চ্যাটবাট নম্বর +91 95992 99372-এ এই পোস্টটি পাঠানো হয়েছিল।

তদন্ত

ভাইরাল ফোটোর তদন্ত করার জন্য আমরা সবার আগে এটাকে গুগল রিভার্স ইমেজে সার্চ করেছি। এতে আমরা 4 জুলাই 2016-এ UCA NEWS-এ প্রকাশিত রিপোর্টটি পেয়েছি। এতে ভাইরাল ফোটোটিও পাওয়া গেছে। এর ক্যাপশনে লেখা, DELETED (মায়াপুরের একটি মন্দিরে ইফতারের সময় মুসলমানদের মিষ্টি দিচ্ছেন ইসকনের একজন সাধু। এটি 22 শে জুন আয়োজিত হয়েছিল।) খবরে প্রকাশিত, মায়াপুর মন্দির প্রাঙ্গণে মুসলমানদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। তাদের মন্দির চত্বরে নামাজ পড়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছিল। ইসকনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মায়াপুরের মন্দিরের সাথে মুসলমানদের গভীর অনুরাগ রয়েছে। এই প্রথম মন্দিরে ইফতারের আয়োজন করা হল।

এটিকে কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করার সময়, আমরা 22শে জুন, 2016-এ oneindia তে প্রকাশিত একটি সংবাদের লিঙ্ক পেয়েছি। সেটা অনুযায়ী মন্দির চত্বরে ইসকন নির্বাচিত মুসলিম পঞ্চায়েত সদস্যদের জন্য ইফতার পার্টির আয়োজন করে।

এর পর আমরা বাংলাদেশে ইসকন মন্দিরে হামলার বিষয়ে সার্চ করি। 17ই অক্টোবর 2021-এ iskconnews এ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে, চৌমনির মন্দিরে হামলায় দুই অনুসারী প্রান্ত চন্দ্র দাস এবং যতন চন্দ্র শাহ নিহত হন। আরেক অনুগামী নিমাই চন্দ্র দাস আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

ইসকনের ভেরিফায়েড টুইটার হ্যান্ডেলটি 16 ই অক্টোবর 2021-এ টুইট করা হয়েছে। লেখা আছে ইসকন সদস্য পার্থ দাস প্রায় 200 জনের একটি দলের হাতে খুন হন। মন্দিরের পাশে একটি পুকুরে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আমরা আরও নিশ্চিতকরণের জন্য মায়াপুর ইসকন মন্দিরের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি বলেছেন, DELETED (এটি একটি পুরানো ছবি, যা গত বছরও একই দাবি নিয়ে ভাইরাল হয়েছিল। এই দাবিটি মিথ্যা। ছবির ব্যক্তিটি বাংলাদেশের নয় বা তিনি মুসলমানদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হননি।)

এই স্ক্রিনশট ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। বিশ্বাস নিউজ সত্যতা যাচাই করেছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট এখানে পড়া যাবে।

আমরা ফেসবুক ইউজার Virendra Vicky Banna  এর স্যোশাল স্ক্যানিং করেছি, যিনি একটি বিভ্রান্তিকর দাবি করে ছবিটি ভাইরাল করেছিলেন। সূত্র অনুযায়ী তিনি রাজস্থানের কোটায় থাকেন। তিনি একটি বিশেষ আদর্শে অনুপ্রাণিত।

निष्कर्ष: ভাইরাল ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুর ইসকন মন্দিরের 22 জুন, 2016 তারিখের। সেখানে মুসলমানদের জন্য ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। এই ছবিতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে বাংলাদেশে হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। বিভ্রান্তিকর দাবি নিয়ে ভাইরাল হচ্ছে ছবিটি।

  • Claim Review : ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ইসকন মন্দিরের স্বামী নিতাই দাসকে মন্দিরে ঢুকে হত্যা করেছে মুসলমানরা।
  • Claimed By : Virendra Vicky Banna
  • Fact Check : Misleading
Misleading
Symbols that define nature of fake news
  • True
  • Misleading
  • False

Know the truth! If you have any doubts about any information or a rumor, do let us know!

Knowing the truth is your right. If you feel any information is doubtful and it can impact the society or nation, send it to us by any of the sources mentioned below.

ট্যাগ

Post your suggestion
আরও পড়ুন

No more pages to load

সম্পর্কিত আর্টিকেলস

Next pageNext pageNext page

Post saved! You can read it later