Fact Check: বাংলাদেশি অভিনেত্রীর ফিল্ম শুটিংয়ের ছবি ভুয়ো দাবি সহ ভাইরাল করা হচ্ছে
সোশ্যাল মিডিয়াতে দুটি ছবির একটি কোলাজ ভাইরাল হচ্ছে। এই কোলাজের প্রথম ছবিতে একজন যুবক এবং যুবতীকে একসাথে দেখা যাচ্ছে, যেখানে দ্বিতীয় ছবিতে একই যুবতীর মুখে আঘাত অথবা পুড়ে যাওয়ার মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
- By: Umam Noor
- Published: নভে. 12, 2025 at 06:17 অপরাহ্ন
নতুন দিল্লি (বিশ্বাস নিউজ)। সোশ্যাল মিডিয়াতে দুটি ছবির একটি কোলাজ ভাইরাল হচ্ছে। এই কোলাজের প্রথম ছবিতে একজন যুবক এবং যুবতীকে একসাথে দেখা যাচ্ছে, যেখানে দ্বিতীয় ছবিতে একই যুবতীর মুখে আঘাত অথবা পুড়ে যাওয়ার মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। ভাইরাল পোস্টটিতে দাবি করা হচ্ছে যে এই যুবতী 2023 সালে আব্দুল খান নামক যুবকের সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন এবং তারপর নিজের নাম ও ধর্ম বদলে ফেলেন। পোস্ট অনুসারে, বিয়ের দুই বছর পর স্বামী তাকে নির্যাতন করেন, মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন।
বিশ্বাস নিউজ নিজেদের তদন্তে জানতে পেরেছে যে ভাইরাল দাবি ভুয়ো। এই ছবিগুলি বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী জ্যোতি ইসলামের এবং উভয় ছবিই কোনো আসল ঘটনার নয়। প্রথম ছবিটি বাংলাদেশের একটি ফিল্ম পোস্টারের। সেখানেই, দ্বিতীয় ছবিটি একটি সিরিয়ালের শুটিংয়ের সময় তোলা হয়েছিল।
ভাইরাল পোস্টে কী আছে?
ফেসবুক ইউজার চক্রেশ্বর দয়াল শ্রীবাস্তব 3 নভেম্বরে ভাইরাল পোস্ট (আর্কাইভ) শেয়ার করে লেখেন, “আব্দুলের প্রেমে ধ্বংস হল আরেক হোন্ডা শেরনী, এটি সম্পূর্ণ পড়ুন এবং বুঝুন। এই হোন্ডা শেরনী 2023 সালে আদিল খানের সঙ্গে বিয়ে করে, নিজের নাম নন্দিনী মন্ডল থেকে জারা ইসলাম রাখে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। অনেক হিন্দু তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সে মানেনি। এই হোন্ডা শেরনী আব্দুলের প্রেমে সম্পূর্ণভাবে ডুবে ছিল। এই মেয়েটি সোশ্যাল মিডিয়াতে বিখ্যাত। অনেকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, “তোমার কাছে টাকা আছে, খ্যাতি আছে, সবকিছু আছে। নিজেকে ধ্বংস করো না। আব্দুল তোমাকে লুটবে এবং ঠকাবে। এটা বুঝে নাও, সেইজন্য ওর থেকে দূরে থাকো।“ কিন্তু এই হোন্ডা শেরনী তাদের গালাগাল দিত, মামলা করার ধমকি দিত এবং বলত, “আমার আব্দুল আমাকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসে। আমার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করো না; আমি সবকিছু নিজেই সামলে নেব।“ এখন, 2023 সাল থেকে 2025 সাল পর্যন্ত, আব্দুল দুই বছর নিজের কামনা উপভোগ করেছে, এই মেয়েটিকে সবরকমভাবে শোষণ করেছে, আর এখন তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। নিচে দেওয়া ছবিতে তার বর্তমান অবস্থা দেখুন। 2023 সালের ছবি 2025 সালের ছবি এই ধরনের বোকাদের সময়মতো জ্ঞান আসে না। সারা দুনিয়া বোঝাক না কেন। যতক্ষণ না এরা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস না হয়ে যায়, ততক্ষণ কারও কথা শোনে না। সত্যি বলতে এরকম মানুষের প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি নেই।”
এই পোস্টটিকে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স -এও শেয়ার করছেন।
তদন্ত
আমাদের তদন্ত শুরু করে আমরা সবার প্রথমে গুগল লেন্সের মাধ্যমে ভাইরাল ছবিটির কী-ফ্রেম সার্চ করি। আলাদা আলাদা কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করার পর আমরা জ্যোতি ইসলাম নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই মহিলার ভিডিও পাই। এখানে ভিডিওটি 21 অক্টোবর শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে ক্যাপশনে আমরা, শুটিং, বিহাইন্ড দ্য সিন্স, বাংলা নাটক নামের হ্যাশট্যাগ পাই।

তদন্ত এগিয়ে নিয়ে আমরা অ্যাকাউন্টটি স্ক্যান করা শুরু করি। প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, জ্যোতি ইসলাম বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী এবং মডেল।

এই অ্যাকাউন্টেই আমরা 3 নভেম্বর পোস্টটির সম্পর্কে শেয়ার করা একটি পোস্ট পাই। ভাইরাল পোস্ট এর পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে উনি লেখেন, “আমি সকালে উঠে দেখি আমার নাম নন্দিনী মন্ডল হয়ে গেছে এবং Tuhin Chowdhury আব্দুল হয়ে গেছে। অনুগ্রহ করে ভুল খবর ছড়ানো বন্ধ করুন এবং ধর্ম সম্পর্কে অনাবশ্যক সমস্যা তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন।”

জ্যোতি ইসলামের প্রোফাইলে আমরা এক নভেম্বরে এই ফিল্মের পোস্টারও পাই। পোস্টটি নিচে দেখা যাচ্ছে।
তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা জ্যোতি ইসলাম নামের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পৌঁছাই, এখানেও আমরা 3 নভেম্বর ভাইরাল পোস্টটিকে খণ্ডন করে একটি পোস্ট পাই। এই প্রোফাইলেই আমরা 2024 সালের ডিসেম্বরে ভাইরাল পোস্ট -এর প্রথম ছবির অনুরূপ ফটো পাই। প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, এটি ‘বিধবা বৌ’ নামক ফিল্মের পোস্টার।


ভাইরাল পোস্টটির সঙ্গে জড়িত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরা বাংলাদেশের সংবাদদাতা সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি আমাদের বলেন, এটি বাংলাদেশের অভিনেত্রীর ছবি, কিন্তু এটি কোনো সত্য ঘটনার নয়, বরং শুটিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এবার পালা ছিল ভুয়ো পোস্টটি শেয়ার করা ফেসবুক ইউজার ‘চক্রেশ্বর দয়াল শ্রীবাস্তব’ এর সোশ্যাল স্ক্যানিং করা। আমরা পাই যে ইউজারকে প্রায় 6 হাজার মানুষ ফলো করেন।
উপসংহার: বিশ্বাস নিউজ নিজেদের তদন্তে পেয়েছে যে সাম্প্রদায়িক দাবি সহ ভাইরাল হওয়া এই ছবি বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী জ্যোতি ইসলামের এবং উভয় ছবিই কোনো আসল ঘটনার নয়। প্রথম ছবিটি বাংলাদেশের একটি ফিল্ম পোস্টারের। আর, দ্বিতীয় ছবিটিও একটি বিহাইন্ড দ্য সীন শুটিংয়ের ভিডিও থেকে নেওয়া হয়েছে।
- Claim Review : একজন যুবতী ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের দুই বছর পর স্বামী তাকে নির্যাতন করেন, মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন।
- Claimed By : ফেসবুক ইউজার চক্রেশ্বর দয়াল শ্রীবাস্তব
- Fact Check : False
Know the truth! If you have any doubts about any information or a rumor, do let us know!
Knowing the truth is your right. If you feel any information is doubtful and it can impact the society or nation, send it to us by any of the sources mentioned below.











